শরীফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ফয়সালকে আগেই জামিনে মুক্ত করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা।
শনিবার (৩ ডিসেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ফয়সালকে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানোর উদ্দেশ্যেই জামিনে বের করা হয়েছিল। এ ঘটনায় তিনি একাধিক প্রশ্ন তুলে ধরেন। তার ভাষায়— সরকারে দায়িত্বশীল কে বা কারা এই জামিনের জন্য তদবির করেছিল, কোন বিচারক এই আদেশ দিয়েছিলেন, তিনি কার মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত, কোন আইনজীবী জামিন করিয়েছেন এবং কোন গণমাধ্যমের মাধ্যমে ফয়সাল প্রকাশ্যে এসেছে—এসব প্রশ্নের জবাব জাতির সামনে আসা প্রয়োজন।
জুমা আরও বলেন, কবির নামের যাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তিনি প্রথম যেদিন হত্যাচেষ্টা চালানো হয় সেদিন ফয়সালের সঙ্গে ছিলেন। ফয়সাল ছাড়া তার কাছেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপরও মামলার অগ্রগতিতে স্থবিরতা কেন, নতুন কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না—এমন বক্তব্য কেন আসছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
ডাকসুর এই নেত্রীর মতে, অনুসন্ধানী সাংবাদিকরা যদি এসব প্রশ্নের উত্তর জনগণের সামনে তুলে ধরেন, তাহলে পুরো ঘটনার অনেক অজানা দিক পরিষ্কার হয়ে যাবে।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর মতিঝিল থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাওয়ার পথে দুপুর ২টা ২০ মিনিটে পল্টনের বক্স কালভার্ট এলাকায় অটোরিকশায় থাকা অবস্থায় শরীফ ওসমান বিন হাদিকে মোটরসাইকেলযোগে আসা দুর্বৃত্তরা গুলি করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হলে ১৮ ডিসেম্বর সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হাদির মৃত্যুর পর সংশ্লিষ্ট মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয় এবং বর্তমানে ঘটনার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।